আজকের বার্তা | logo

৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

দুর্ভোগে হাজারো রোগী পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয় না শেবাচিম হাসপাতালে

প্রকাশিত : জানুয়ারি ১১, ২০১৮, ০১:৩২

দুর্ভোগে হাজারো রোগী পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয় না শেবাচিম হাসপাতালে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে রোগীদের রোগ নির্ণয়ের অধিকাংশ যন্ত্রপাতি অচল হয়ে আছে। ফলে প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকা দেড় সহস্রাধিক এবং বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা সহস্রাধিক রোগীকে রোগ নির্ণয়ে সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মোটা অংকের অর্থ খরচ করে যেতে হয় হাসপাতাল সংলগ্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বরাবরই যন্ত্রাংশ সচল করার আশ^াস দিচ্ছে। তবে রোগী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যন্ত্রপাতিগুলো সচল রাখার চেষ্টা ঢিমেতালে চলছে। বরঞ্চ রোগীদের বাইরের ডায়গনস্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে সেখান থেকে কমিশন সুবিধা পাচ্ছেন কর্মচারীরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা যন্ত্রপাতিগুলো সচল করার জন্য হাসপাতালের পরিচালককে বারবার তাগাদা দিচ্ছেন। শেবাচিম হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রেডিওলোজি বিভাগের সিটিস্ক্যান মেশিন দুটি অচল রয়েছে গত বছরের ২৪ নভেম্বর থেকে। ২০১৬ সালের নভেম্বর থেকে অচল রয়েছে এমআরআই মেশিন দুটি। হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন রয়েছে মোট ৮টি। তারমধ্যে শুধুমাত্র অর্থপেডিক্স বিভাগের মেশিনটি সচল রয়েছে। আল্ট্রাসনোগ্রাম করানোর ৫টি মেশিনের সবকটি অচল রয়েছে গত নভেম্বর থেকে। একবছর ধরে অচল রয়েছে ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কোবাল্ট-৬০ মেশিনটিও। রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতিগুলো অচল থাকার সত্যতা স্বীকার করে রেডিওলোজি বিভাগের চিকিৎসা ইনস্ট্রুমেন্ট কেয়ারটেকার (সরঞ্জাম তদরককারী) পরিতোষ সরকার বলেন, বিভিন্ন সময়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ওইসব মেশিন ক্রয় করা হয়েছে। তারমধ্যে যেগুলোর গ্যারান্টি মেয়াদ রয়েছে সেগুলো মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে কোবাল্ট-৬০ মেশিনটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ওই মেশিনটি আর সচল হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে পরিতোষ সরকার জানান। তিনি আরও জানান, সিটিস্ক্যান ও আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন মেরামতের জন্য চলতি মাসেই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী হাসপাতালে আসবেন। এক্স-রে বিভাগে নতুন একটি মেশিন বসানো হচ্ছে। এমআরআই মেশিন সচল করতে প্রচুর অর্থ ব্যয় হবে। তাই হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় নতুন মেশিন ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। হাসপাতালের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, হাসপাতালে প্রতিদিন কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ রোগীর সিটিস্ক্যান করানো হতো। আল্ট্রাসনোগ্রাম হতো কমপক্ষে ১০/১৫ রোগীর। রেডিওলোজি বিভাগের সব যন্ত্র অচল থাকায় হাসপাতালের রোগীদের সংলগ্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হচ্ছে। গৌরনদী পৌর শহরের বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম জানান, তার ছেলে ফিরোজ বেপারী চলতি সপ্তাাহে শেবাচিম হাসপাতালের ৩য় তলায় মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি হাসপাতাল থেকে কোন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে পারেননি। হাজার হাজার টাকা খরচ করে বাহিরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম করাতে হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন একাধিক রোগীর স্বজন। শেবাচিম হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. রাজু আহম্মেদ জানান, যন্ত্রগুলো অচল থাকায় রোগীদের চিকিৎসায় নানা বিড়ম্বনা হচ্ছে। সেগুলো সচল করার জন্য তারা হাসপাতালের পরিচালককে বারবার তাগাদা দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা: মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান যন্ত্রপাতিগুলো সরবরাহ করেছে, মেরামতের জন্য তাদেরকে অবহিত করা হয়েছে। তারা ২/১ সপ্তাহের মধ্যে এসে যন্ত্রপাতিগুলো মেরামত করবে। রোগীর ভোগান্তি দূর করতে বাহিরে যাতে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে না যেতে হয় সে লক্ষ্যে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।