আজকের বার্তা | logo

৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

তীব্র শীতে দিশেহারা ভোলার চরাঞ্চলের ৫ লাখ মানুষ

প্রকাশিত : জানুয়ারি ০৯, ২০১৮, ১২:৪৮

তীব্র শীতে দিশেহারা ভোলার চরাঞ্চলের ৫ লাখ মানুষ

ভোলা প্রতিনিধি: উপকূলীয় দ্বীপ জেলা ভোলার উপর দিয়ে গত কয়েক দিন থেকেই বয়ে যাচ্ছে হার কাপানো শীত। তীব্র শীতে স্থবীর হয়ে পড়েছে জনজীবন। সর্বত্র বইছে কুয়াশাআচ্ছন্ন কনকনে ঠান্ডা বাতাস। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও বেড়িবাঁধ এলাকার ছিন্নমূল পরিবারে সদস্যরা তীব্র শীতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। শীতের আমেজে গ্রামগঞ্জে একদিকে যেমন ভাপা পিঠা আর চিতোই পিঠা বানানোর ধুম চলছে অন্যদিকে উপকূলের চরাঞ্চলের হতদরিদ্র মানুষগুলোর জীবনে এনেছে অভিশাপ। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানষের বেড়েছে চরম দুর্দশা। শীতবস্ত্রের অভাবে তারা খড়-কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। তীব্র ঠান্ডায় অট্টালিকায় থাকা সুখী মানুষরা ল্যাপ-কম্বল জড়িয়ে শীতকে মানাতে না পারলেও অনেকটা খোলা আকাশের নিচে থাকা খেটে খাওয়া এসব মানুষগুলোর আগুন আর ছেড়া কাথাই শীত নিবারণের একমাত্র অবলম্বন।

সরেজমিনে ভোলার বিভিন্ন গ্রাম্য এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এমনই চিত্র, শীত বাড়ার সাথে সাথে চলছে কাঁথা সেলাইয়ের ধুম। ছেড়া কাপড় জোড়াতালি দিয়ে তৈরী হয় এসব কাঁথা। কেউ কেউ আবার মোটা কাপড়রে অভাবে খড়-কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণরে চেষ্টা করছে। হতদরিদ্র এসব মানুষগুলোর কাছে শীত মানে, প্রচণ্ড ঠান্ডায় খড়-কুটো জ্বালিয়ে আগুনে হাত পোহানো আর পরবর্তী ভোরের অপেক্ষা। যেন কোনমতে শীতটা পরকরতে পারলেই দায় সাড়া।

ভোলার মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এসব চরাঞ্চল গুলোতে বেসরকারি হিসাবে প্রায় ৫ লাখ মানুষের বাস। আর এইসব চরের মানুষ গুলো দারিদ্রসীমার নিচে বাস করছে। তাদের প্রধান পেশা নদীতে মাছ ধরা, কৃষিকাজ ও দিনমজুর হিসাবে কাজ করা। এদের কাছে শীত গ্রীষ্ম সব ঋতুই সমান। যেখানে এই শীতে ঘর থেকেই বের হওয়া দায়, সেখানে এরা কাক ডাকা ভোরে পেটের তাগিদে বেড়িয়ে যায় জীবিকার সন্ধানে। দু’বেলা দুই মুঠো ভাত, সন্ধ্যা হলে আগুনের তাপ আর রাতে ভারি কাঁথা হলেই এরা সন্তুষ্ট।

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন চর শাহজালালের মরিয়ম বেগম (৪০), হাফেজা(২৭), জয়নাব বিবির (৩০) সাথে কথা হলে তারা জানান, ”আমরা ল্যাপ-তোষক কিননের টেহা কুনডে পামু, হারাদিন মাইনসের বাড়িত দাসী বান্দির কাম করি যেই কয়ডা টেহা পাই তা দিয়া সংসার চলে না।”

সদর উপজেলার মাঝের চরের মৃত মনছুর অলীর বৃদ্ধা স্ত্রী মনেজা খাতুন (৭৪) অভিযোগের সুরে বলেন, শীতের সময় অনেকেই গরীগরে কম্বল দেয়। কিন্তু আমাগো লইগ্যা কেউ কিছু নিয়া আহে না।

সদর উপজেলার কোড়ার হাটের রিপন হাওলাদার, শুক্কুর মিয়া ও সিডু মাঝি জানান, গত ২০ বছরেও এমন শীত পড়েনি। প্রচণ্ড শীতে দরিদ্র পরিবারগুলোর নাকাল অবস্থা। তারা বলেন, “আমরা এহনও কোন শীত বস্ত্র পাইনাই। শুনছি অনেকেই কম্বল বিতরণ করতাছে। কিন্তু আমাগো ভাগ্যে কিছুই জোটেনাই।

এবিষয়ে ভোলা জেলা প্রশাসক মোহাং সেলিম উদ্দিন জানান, জেলার ৭টি উপজেলায় ইতিমধ্যেই শীতার্তদের মাঝে সরকারী সাহায্য আসা শীত বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। তবে এ সাহায্য প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামন্য। তাই আরো সাহায্যের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা হবে বলে জানান তিনি।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।