আজকের বার্তা | logo

৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

আমতলীর ৪০ টি বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনে পাঠদান!

প্রকাশিত : জানুয়ারি ০৩, ২০১৮, ০১:২৪

আমতলীর ৪০ টি বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনে পাঠদান!

আমতলী প্রতিনিধি ॥ বরগুনার আমতলী উপজেলার ৪০ টি পরিত্যক্ত ভবনে চলছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান। ১৫ টি বিদ্যালয় ভবনের অবস্থা খুবই নাজুক ও ৬ টি বিদ্যালয় ভবন খারাপ। জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ১৫২ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৪০ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনে পাঠদান চলছে। ১৫ টি বিদ্যালয়ের ভবনের অবস্থা খুবই নাজুক ও ৬ টি বিদ্যালয়ের ভবনের অবস্থা খারাপ। এ জরাজীর্ণ ভবনগুলো ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। শ্রেণি সঙ্কটের কারণে পরিত্যক্ত ভবনগুলোতেই চলছে পাঠদান। গত বছর নভেম্বর মাসে আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কর্তৃক পরিত্যক্ত ভবন ঘোষণা করা বিদ্যালয়গুলো হলো-গেরাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য টেপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব চন্দ্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আমতলী একে হাই সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর পশ্চিম চরচিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব কেওয়াবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আমতলী লোচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুলাইর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আমতলী এমইউ বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডালাচারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব হলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব তারিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খেকুয়ানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হালিমা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব হরিমৃত্যুঞ্জয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর পূর্ব কুকুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য শাখারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য কৃষ্ণনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সেকান্দারখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইব্রাহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর পশ্চিম চিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ কাঠালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর পূর্ব টেপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর পশ্চিম টেপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব কলাগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর রাওঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঘোপখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ আমতলী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ পূর্ব আমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর রাওঘা সততা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টেপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ আমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চন্দ্রা চৌধুরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর রাওঘা কেওয়াবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর পশ্চিম তক্তাবুনিয়া মমতাজ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব তারিকাটা এসটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চাউলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভবন খুবই নাজুক এমন বিদ্যালয়গুলো হলো-পূর্ব গুলিশাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর পশ্চিম চিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব চরকগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ ঘোপখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ গুলিশাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর ঘটখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম নাচনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাওড়া লোদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাতাকাটা নুরুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভায়লাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাইঠা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ,দক্ষিণ পাতাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর পশ্চিম চরচিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ পূর্ব চিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ভবন খারাপ বিদ্যালয়গুলো হলো-গোজখালী বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব চাওড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উল্টাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাজীপুর বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরচিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কুকুয়া গোজখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে ভবন নির্মাণ করায় অল্প দিনের মধ্যে ভবনগুলো ভগ্ন দশায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী বিভাগের অর্থায়নে এ ভবনগুলো ১৯৮৮ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নির্মাণ করা হয়। ভবনগুলোর ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে। রড বেরিয়ে গেছে। বৃষ্টি হলে ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ছে। কক্ষের ভেতরের দেয়ালে ফাটল রয়েছে। আমতলী একে হাই সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উত্তর পশ্চিম চরচিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, ভবনের অবস্থা অত্যন্ত জরাজীর্ণ। উত্তর পশ্চিম চরচিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিদিন ভবনের পলেস্তার খসে পড়ছে। ছাদ চুঁইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ছে। এ জরাজীর্ণ ভবনে কাস করার সময়ে আতঙ্কে থাকতে হয়। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছে। ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোসাঃ ফিরোজা বেগম বলেন, জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে হচ্ছে। আমতলী সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক একেএম জিল্লুর রহমান বলেন, জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশুদের পাঠদান করাতে যেমন পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে। আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মজিবুর রহমান পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদানের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘পরিত্যক্ত ভবনের তালিকা করে উপজেলা প্রকৌশল অফিসে জমা দিয়েছি।’

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।