আজকের বার্তা | logo

২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১০ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং

২০১৭ সালের আলোচিত ঘটনা!

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ২২, ২০১৭, ১৯:১২

২০১৭ সালের আলোচিত ঘটনা!

দিন আসে, দিন যায়, সাল আসে সাল যায়। ঠিক তেমনি ২০১৭ শুরু হয়েছিল জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে। শেষ হতে আর কয়েকদিন। এর মধ্যে নানা ঘটনার জন্ম হয়েছে এ সালে। ২০১৭ সালের আলোচিত কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরা হল।

রোহিঙ্গাদের ঢল ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন

এ বছর দেশের আলোচিত ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো মিয়ানমার সরকারের গণহত্যার শিকার রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয়। প্রথমে সরকার রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দিলেও পরে সীমান্ত এলাকা খুলে দেয়া হয়। প্রতিদিন হাজার হাজার রোহিঙ্গা জীবণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।
এর আগে থেকেই কয়েক লাখ রোহিঙ্গার ভরণপোষন করে আসছে বাংলাদেশ। বছর শেষে সব মিলে এই সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। এ বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার বাংলাদেশে আশ্রয় ও তাদের ওপর অত্যাচার নিপিড়ন ও গণহত্যার খবর দেরিতে হলেও বিশ্ববিবেককে নাড়া দেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের আশ্রয় দেয়ায় মাদার অব হিউমিনিটি উপাধি পান। সীমিত সম্পদ নিয়ে হত্যার শিকার রোহিঙ্গাদের পাসে দাঁড়ানোর পর বিশ্ববাসীর প্রসংশা পায় বাংলাদেশ। পরে এটি বিশ্ব ইস্যু হয়ে দাঁড়ায় কিন্তু এখনও রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে তেমন কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়।

এমপি লিটন হত্যা

বিদায়ী বছর শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে নিজ বাড়িতে ঢুকে গুলি হত্যার ঘটনায় হকচকিয়ে ওঠে দেশবাসী। সর্বানন্দ ইউনিয়নের শাহাবাজ এলাকায় নিজের বাড়িতে হামলার শিকার লিটনকে সঙ্গে সঙ্গে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। ২০০৫ সালে হবিগঞ্জে আওয়ামী লীগের শাহ এএমএস কিবরিয়াকে হত‌্যার এক দশক পর কোনো সংসদ সদস‌্য হত‌্যাকাণ্ডের শিকার হলেন।

লিটনের দল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা হত‌্যাকাণ্ডের জন‌্য প্রথমে জামায়াতে ইসলামীকে সন্দেহ করলেও পরে জাতীয় পার্টির এমপি প্রার্থী কর্নেল (অব.) ডা. আব্দুল কাদের খানকে গ্রেফতার করে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী। পরে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। এখন তিনি জেলে আছেন। ৪৮ বছর বয়সী লিটন এবারই প্রথম সংসদ সদস‌্য নির্বাচিত হন। তিনি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার (মেরিন) ছিলেন; আনন্দ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালকও ছিলেন তিনি।

বনানীতে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ধর্ষণ

গত ২৮শে মার্চ ঢাকার বনানীতে একটি হোটেলে আয়োজিত জন্মদিনের পার্টিতে আমন্ত্রণ জানিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন দুইজন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী। বনানীর রেইনট্রি নামের হোটেলে ধর্ষণের অভিযোগে আপন জুয়েলার্সের একজন মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদ ও তার দুই বন্ধুসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন দুই তরুণী। ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর পুলিশের কাছে গেলে পুলিশ শুরুতে মামলাটি নিতে চায়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়, সাফাত আহমেদ এবং নাঈম আশরাফই সরাসরি ধর্ষণে অংশ নিয়েছিল। বাকি তিনজন সহযোগিতা করেছে। বর্তমানে মামলাটির বিচার চলছে।

সিদ্দিকুরের চোখে টিয়ারসেল পরে অন্ধ

গত ২০ জুলাই সকালে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে নীতিমালা প্রণয়নসহ সাত দফা দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাতটি কলেজের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পুলিশ ওই মানববন্ধনে বাধা দিলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধেঁ। একপর্যায়ে টিয়ারসেল ছুড়েলে ওই টিয়ারসেলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমানের দুই চোখ।

সিদ্দিকুর রহমানকে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে সরকারের পক্ষ থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে নেয়া হয়। কিন্তু চোখ আর ভাল হয়নি সিদ্দিকুরের। স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাকে এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডে চাকরিতে নিয়োগ দেন। এখন অন্ধ সিদ্দিকুর সেখানেই মানিয়ে চলারে চেষ্টা করছেন।

রাস্তায় সন্তান প্রসব

গত ১৭ অক্টোবর মঙ্গলবার ভোরে স্বামী পরিত্যক্তা অন্তঃসত্ত্বা পারভীন বেগমের প্রসব বেদনা শুরু হলে সোহেল নামের এক তরুণ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু দুইটি হাসপাতাল থেকে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সর্বশেষ আজিমপুরের মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গিয়েও চিকিৎসা মেলেনি ওই নারীর। মাত্র ১৫শ টাকার জন্য তাকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনটি হাসপাতালে জায়গা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনের রাস্তায় সন্তান প্রসব করেন পারভীন বেগম। পরে হাসপাতালে যখন তার জায়গা হলো, ততক্ষণে সদ্যোজাত সন্তানটি আর বেঁচে নেই। প্রাথমিকভাবে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় মাতৃসদনের এক আয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ ঘটনার তদন্তে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল এবং আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান পৃথক তিনটি কমিটি গঠন করেছে। এর মধ্যে মাতৃসদনের তাৎক্ষণিক তদন্তে আয়া শাহেদা আক্তার দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না এবং প্রসূতিকে কেন ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে না- তা রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে।

বিচার না পেয়ে বাবা-মেয়ের আত্মহত্যা

গত ২৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুরে শিশু মেয়েসহ চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন এক বাবা। শিশু মেয়ে ধর্ষণের শিকার হওয়ার পরও বিচার না পাওয়ায় নির্যাতনের শিকার হওয়ায় বাবা-মেয়ে আত্মহত্যা করেন। ঘটনায় ৩০ এপ্রিল ঢাকার কমলাপুর জিআরপি থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন নিহত হযরত আলীর স্ত্রী হালিমা বেগম। ২৭ মে মামলার প্রধান আসামি মো. ফারুককে (৩০) গ্রেফতার করে র‌্যাব-১। এর আগে গ্রেফতার করা হয় আরও ২ জনকে।

চলন্ত বাসে মেধাবী ছাত্রী রুপা ধর্ষণ

গত ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে চলন্ত বাসে ছোঁয়া পরিবহনের শ্রমিকরা আইন বিভাগের মেধাবী ছাত্রী রূপা খাতুনকে ধর্ষণ করে। পরে রুপার ঘাড় মটকে হত্যা করে টাঙ্গাইলের মধুপুর বন এলাকায় ফেলে রেখে যায়। মধুপুর থানার পুলিশ ওই রাতেই তাঁর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পর বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করে। একইসাথে ওই থানার পুলিশ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা করে। এরপর ২৮ আগস্ট মধুপুর থানায় গিয়ে লাশের ছবি দেখে রুপাকে শনাক্ত করেন তার ভাই হাফিজুর রহমান। পরে পুলিশ ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর (৪৫), বাসের তত্ত্বাবধায়ক সফর আলী (৫৫) এবং বাসচালকের সহকারী শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীরকে (১৯) গ্রেপ্তার করে। পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা রুপাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়। এরপর গত ৩১ আগস্ট রুপার লাশ টাঙ্গাইল কেন্দ্রিয় কবরস্থান থেকে উত্তোলন করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাঁকে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নিজ গ্রাম আসানবাড়িতে বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয়।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।