আজকের বার্তা | logo

৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং

শিল্পে পিছিয়ে বরিশাল

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭, ১৩:২৫

শিল্পে পিছিয়ে বরিশাল

অনলাইন ডেক্সঃ বরিশালে বড় শিল্প কারখানা কী কী আছে—এই প্রশ্নের জবাবে দুটি নাম বলতে পারেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একটি অপসোনিনের ওষুধ কারখানা, অন্যটি খান সন্সের সিমেন্ট মিল। এর বাইরে যাঁরা একটু বেশি খোঁজ রাখেন, তাঁরা বিসিক শিল্পনগরের ফরচুন সুজ নামের একটি রপ্তানিমুখী জুতার কারখানার কথা উল্লেখ করতে পারেন।

এর বাইরে বরিশালে উল্লেখযোগ্য বৃহৎ কোনো শিল্প নেই। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, শিল্পের দিক দিয়ে বরিশাল অন্য বিভাগগুলোর চেয়ে পিছিয়ে। বরিশালে গ্যাস নেই। বিদ্যুতের ঘাটতিও প্রবল। উদ্যোক্তা, সস্তা শ্রম ও জমি থাকার পরও এই জেলায় শিল্পে বিনিয়োগ হয়নি।

স্থানীয় ব্যক্তিদের অভিযোগ, বরিশাল বিভাগে শিল্প গড়ার দিকে সরকারও কখনো নজর দেয়নি। দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) হয়েছে। নতুন করে অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে, কিন্তু বরিশালে কিছুই হচ্ছে না। এমনকি বরিশালে যে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) শিল্পনগর আছে, সেটিও অবহেলিত।

শিল্প না থাকায় বরিশালের তরুণদের কাজের খোঁজে অন্য জেলায় যেতে হয়। স্থানীয় ব্যক্তিরা বলছেন, জেলার মানুষের মধ্যে প্রবণতাই হলো সন্তান কর্মক্ষম হলেই তাকে ঢাকা, চট্টগ্রাম বা অন্য কোনো শহরে কাজের খোঁজে পাঠিয়ে দেওয়া।

অবশ্য ভবিষ্যতে পটুয়াখালীতে পায়রা বন্দর পুরোপুরি চালু হলে এবং পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলে বরিশালে শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠার আশা দেখছেন জেলার ব্যবসায়ীরা। জানতে চাইলে বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিআই) সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, পায়রা বন্দর চালু হলে এই অঞ্চলে পণ্যের কাঁচামাল পরিবহন সহজ হবে। পদ্মা সেতু নির্মাণ শেষ হলে বরিশালে পণ্য তৈরি করে তা দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পাঠাতে সমস্যা দূর হবে। এতে বরিশালে বিনিয়োগ বাড়বে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৩ সালের অর্থনৈতিক শুমারিতে দেখা যায়, বরিশাল বিভাগে ৪৫ হাজার ৭৩৫টি উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক ইউনিট আছে, যা সিলেট ছাড়া বাকি বিভাগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম। তবে সিলেট বিভাগে গ্যাস থাকায় সেখানে অনেক বড় বড় শিল্প হয়েছে। সেখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করেছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) বরিশাল জেলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বড় ও মাঝারি শিল্প আছে ১৫টি। ক্ষুদ্র শিল্প আছে ১ হাজার ৯৫৫টি। কুটির শিল্প আছে ৯ হাজার ৭১৯টি।

বরিশালে যে রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানা চালানো যায়, তা প্রমাণ করেছে ফরচুন সুজ। ২০১২ সালে বরিশালের বিসিক শিল্পনগরে প্রতিষ্ঠিত এই কারখানায় প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক কাজ করেন। এতে তৈরি জুতা রপ্তানি হয় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। সম্প্রতি ফরচুন সুজের কারখানা ঘুরে এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই কারখানার কাঁচামাল সবই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা হয়। আবার চট্টগ্রাম বন্দর দিয়েই জুতা ইউরোপে যায়। তাঁরা মূলত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্পোর্টসওয়্যার তৈরি করেন। ফরচুনের কর্মকর্তারা বলেন, পায়রা বন্দর চালু হলে তাঁদের কাঁচামাল আমদানি ও পণ্য রপ্তানিতে সময় কম লাগবে।

বিসিকের প্লট খালি

বরিশালে বিসিক শিল্পনগর প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয় ১৯৬১ সালে। প্রায় ১৩১ একর জমির ওই শিল্পনগরে প্লটের সংখ্যা ৪৪৬টি। এর মধ্যে ৩৭৮টি প্লট বরাদ্দ দিতে পেরেছে বিসিক। বরাদ্দ করা প্লটে শিল্প ইউনিট সংখ্যা ১৭৩, যার মধ্যে ৭২টি উৎপাদনে আছে। বিসিকের তথ্য অনুযায়ী, ৮২টি শিল্প ইউনিট বাস্তবায়নাধীন।

বিসিক শিল্পনগরে গিয়ে দেখা যায়, অনেক প্লট এখনো খালি পড়ে আছে। অনেকগুলোতে পুরোনো শিল্পকারখানা বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ।

শিল্পনগরে ৩ কোটি টাকা বিনিয়োগে শাওন পিভিসি পাইপ নামের একটি কারখানা করেছেন বাবুল হোসেন। বিসিক কার্যালয়ে দেখা হয় তাঁর সঙ্গে। জানতে চাইলে ওই উদ্যোক্তা বলেন, বিদ্যুতের লোডশেডিং তাঁদের জন্য ব্যাপক সমস্যা তৈরি করছে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে তাঁর ৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়। উৎপাদন পর্যায়ে থাকা আধা প্রস্তুত পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, রাস্তার অবস্থা এতই খারাপ যে মোটরসাইকেল নিয়েও তাঁর কারখানায় যাওয়া যায় না।

বাবুল হোসেন তাঁর অসুবিধার কথা বলছিলেন, এমন সময় বিকট শব্দে ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে বিদ্যুৎ চলে যায়। বিসিক কর্মকর্তারা জানান, শিল্পনগরের জন্য আলাদা একটি লাইন বা ফিডার থাকার কথা, সেটা হয়নি।

বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক শেখ রফিকুল হক বলেন, এ বছর সরকার ৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এই টাকা দিয়ে রাস্তাঘাট ও বিদ্যুতের আলাদা ফিডারের ব্যবস্থা করা হবে।

‘গ্যাস চাই’

বরিশালে একটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বোতলজাতকরণ কারখানা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী এস এম জাকির হোসেন। তিনি বলেন, বরিশালের আশপাশের জেলা শহরগুলোর তেমন উন্নতি হয়নি। ফলে এই অঞ্চলের বাজারও ছোট। তবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এখন বাড়ছে। ভবিষ্যতে দক্ষিণাঞ্চলে যত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হবে, তার কেন্দ্র হবে বরিশাল। এ জন্য গ্যাসের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বরিশালে ১০০ জনের বেশি ব্যবসায়ী আছেন, যাঁরা ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় শত কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছেন। এখানে গ্যাস এলে তাঁরাই বরিশালে বিনিয়োগ করবেন।

বরিশালে গ্যাস সরবরাহের উৎস হতে পারে ভোলা। বরিশাল থেকে ভোলার দূরত্ব ৩০ কিলোমিটারের মতো। তবে বরিশালের ব্যবসায়ীরা বলেন, ভোলার রাজনীতিবিদেরা সেখানকার গ্যাস বরিশালে দিতে চান না।

বিসিসিআইয়ের সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, ‘ভোলায় প্রচুর গ্যাস পাওয়া গেছে। সেখান থেকে তা বরিশালে আনা গেলে এই অঞ্চলে প্রচুর বিনিয়োগ হবে। আমরা এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সুনজর চাই।’ তিনি বলেন, ভোলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তা অন্যান্য জেলায় দেওয়া গেলে গ্যাস কেন নয়?

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।