আজকের বার্তা | logo

১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

রণাঙ্গণের মুক্তিযোদ্ধা আজও উপেক্ষিত, কবে মিলবে স্বীকৃতি

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ২৪, ২০১৭, ১৬:৫৪

রণাঙ্গণের মুক্তিযোদ্ধা আজও উপেক্ষিত, কবে মিলবে স্বীকৃতি

মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সারাদিয়ে দেশ মাতৃকার টানে নিজের জীবনবাঁজি রেখে রণাঙ্গণে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে লাল সবুজের বিজয় পতাকা ছিনিয়ে এনেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রতন কুমার সরকার, এমএস মাহামুদ হোসেন ও এইচএম মহিউদ্দিন।
স্বাধীনতা যুদ্ধে তারা বিজয়ী হলেও জীবনযুদ্ধে হয়েছেন পুরোপুরি পরাজিত। সকল প্রকার সনদ থাকা সত্বেও দেশ স্বাধীনের দীর্ঘদিন পরেও তারা মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অর্ন্তভূক্ত হতে পারেননি। তালিকাভূক্ত হওয়ার জন্য তারা বিভিন্নস্থানে ঘুরেও কোন সুফল পাননি। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হয়েও শেষপর্যন্ত তারা কি স্বীকৃতি পাবেন এনিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে।
জীবনের শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ৯নং সেক্টরের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সৈয়দ মনিরুল ইসলাম বুলেট ছিন্টু আক্ষেপ করে বলেন, যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে সরাসরি মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে যুদ্ধ করেছেন তাদের অনেকের নাম এখনও তালিকাভূক্ত হয়নি। অথচ অনেকেই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ না করেও জালজালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন। তিনি উল্লিখিত মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেটভূক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
রতন কুমার সরকার ॥ দশম শ্রেনীর ছাত্র রতন কুমার সরকার তার গর্ভধারিনী মাকে না জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলেন। বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা গ্রামের মৃত নগেন্দ্র নাথ সরকারের পুত্র রতন কুমার সরকার (৬২) বলেন, ১৯৭১ সালের মে মাসে মাকে না জানিয়ে দেশকে শত্রু মুক্ত করার নেশায় সেদিন মুক্তিযুদ্ধের স্থানীয় বেইজ কমান্ডার বজলুর রহমান খান ও সহকারী বেইজ কমান্ডার তৎকালীন নৌ-বাহিনীর কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক খানের দলে যোগদান করে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলাম। জুন মাসে মুক্তিবাহিনীর পাদ্রীশিবপুর ক্যাম্পে সমবেত হয়ে বিভিন্নস্থানে পাক সেনাদের সাথে সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। পাকসেনাদের অবস্থান জানার জন্য ক্যাম্প থেকে প্রায়ই আমাকে জীবন বাঁজি রেখে ছদ্মবেশ ধারন করে গোয়েন্দার কাজ করতে হয়েছে। নভেম্বর মাসে শ্যামপুর এলাকায় পাক সেনাদের বহনকারী গানবোর্ডে হামলা চালায় মুক্তিযোদ্ধারা। পরবর্তীতে উভয়গ্রুপের মধ্যে সম্মুখ যুদ্ধে ছয়জন পাক সেনা মারা যায়। সেই যুদ্ধে বীরত্বের ভূমিকা পালন করেন রতন কুমার সরকার।
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ন অবদানের জন্য নানা কাগজপত্র থাকা সত্বেও অদ্যবর্ধি তিনি (রতন কুমার সরকার) মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভূক্ত হতে পারেননি। একাধিবার গেজেটভূক্ত হওয়ার চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। সর্বশেষ অনলাইনে আবেদনের পর যাচাই-বাছাইয়ে রহস্যজনক কারণে তাকে “খ” তালিকাভূক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তিনি জামুকায় আপীল করেছেন। জীবনের শেষপ্রান্তে এসে একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভূক্তি হওয়ার জন্য রতর কুমার সরকার প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এমএস মাহামুদ হোসেন ॥ মৃত্যুকে ভয়না পেয়ে নিজের জীবন বাঁজি রেখে মুক্তিযোদ্ধাদের গুপ্তচর হিসেবে কাজ করেছেন বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধল গ্রামের মৃত আমিন উদ্দিন সিকদারের পুত্র টগবগে যুবক এমএস মাহামুদ হোসেন ওরফে আবদুল হাই সিকদার (৬৫)। একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হয়েও নানাকারণে গেজেটভূক্ত হতে না পেরে জীবনের শেষপ্রান্তে এসে ছয় সদস্যর পরিবারের ভরন পোষনের জন্য এখনও তাকে দিনরাত হাঁড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করতে হচ্ছে। তিনি জানান, দেশ মাতৃকার টানে পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে ১৯৭১ সালের মে মাসে মুক্তিযুদ্ধের স্থানীয় বেইজ কমান্ডার বজলুর রহমান খান ও সহকারী বেইজ কমান্ডার আবদুর রাজ্জাক খানের দলে যোগদান করে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলাম। পরবর্তীতে আমাকে ছদ্মবেশ ধারন করে পাক সেনা ও রাজাকারদের অবস্থান কিংবা আগমনের খবরা খবর মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়। নিজের জীবন বাঁজি রেখে সেদিন দায়িত্ব পালন করেছি। দেশ স্বাধীনের পর মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প থেকে আমার কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ সনদপত্র দেয়া হয়েছে। নানা কাগজপত্র থাকা সত্বেও অদ্যবর্ধি তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আজও গেজেটভূক্ত হতে পারেননি। সর্বশেষ অনলাইনে আবেদনের পর যাচাই-বাছাইয়ে তাকে “খ” তালিকাভূক্ত করার পর তিনি জামুকায় আপীল করেছেন। সকল প্রকার কাগজপত্র থাকার পরেও শেষপর্যন্ত তিনি গেজেটভূক্ত হতে পারবেন কিনা তা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এজন্য তিনি (এমএস মাহামুদ হোসেন) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এইচএম মহিউদ্দিন ॥ গৌরনদী উপজেলার দিয়াশুর গ্রামের তালেব আলী হাওলাদারের পুত্র এইচএম আলাউদ্দিন ও এইচএম মহিউদ্দিন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।

এ খবর পেয়ে স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগীতায় পাকসেনারা তালেব আলী হাওলাদার ও তার স্ত্রী আছিরোন নেছাকে ধরে নিয়ে সরকারী গৌরনদী কলেজের পাক সেনাদের ক্যাম্পে দীর্ঘ সাত মাস আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করেছিলো। যুদ্ধচলাকালীন সময় পাক সেনাদের হাতে গুরুতর জখম হয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধা এইচএম মহিউদ্দিন। দেশ স্বাধীনের পর ছিনতাইকারীদের কবলে পরে মুক্তিযুদ্ধের সকল কাগজপত্র খোঁয়া যায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিনের। যে কারণে একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হয়ে আজও তার (এইচএম মহিউদ্দিন) নাম তালিকাভূক্ত হয়নি। মহিউদ্দিনের একপুত্র ও দুই কন্যা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হলেও বাবার মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেটের অভাবে তারা সরকারী চাকরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

মোঃ আবদুল হাই মিয়া ॥ স্বাধীনতার স্ব-পক্ষের সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন যুদ্ধচলাকালীন ৯নং সেক্টরের নাজিরপুর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পের বাবুর্চি মোঃ আবদুল হাই মিয়া (৬৫)। গৌরনদী উপজেলার পূর্ব হোসনাবাদ গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিনের পুত্র আবদুল হাই মিয়া জানান, যুদ্ধ চলাকালীন সময় দীর্ঘ সাত মাস তিনি ওই ক্যাম্পের বাবুর্চি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় থাকলেও বিগত বিএনপি-জামায়াতের চারদলীয় জোটের আমলে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের সমর্থক হওয়ায় স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তির রোষানলে তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেয়া হয়। পরবর্তীতে বর্তমান সরকারের সময়ে প্রয়োজনীয় সনদপত্রসহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করার পর পূর্ণরায় তার নাম অর্ন্তভূক্ত করা হয়।

ফলে সম্প্রতি সময়ে তার মুক্তিযোদ্ধার ভাতা চালু হওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তিনি এখন বেশ সুখেই বসবাস করছেন। তাই জীবনের শেষপ্রান্তে এসে জাতীয় বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়ায় আবদুল হাই মিয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।