আজকের বার্তা | logo

১০ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আরেকজন আনিসুল হক উপহার দিন

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ২১, ২০১৭, ১১:১৫

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আরেকজন আনিসুল হক উপহার দিন

পীর হাবিবুর রহমান: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আনিসুল হককে মেয়র প্রার্থী করে আপনি সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন। এমন প্রখর আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী ও সৃজনশীল মেধাবী স্বাপ্নিক পুরুষকে দলের মনোনয়ন দেওয়ায় সমালোচকরাও প্রার্থীর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারেননি। সেই সময় থেকে আনিসুল হকের মৃত্যু-পরবর্তী সময় পর্যন্ত সর্বমহলের এক কথা উচ্চারিত হয়েছে, প্রার্থী নির্বাচনে আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। সেই নির্বাচনের দিন বিএনপি ভোট বর্জন করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল। নির্বাচন নিয়ে তাদের অভিযোগের শেষ ছিল না। কিন্তু ঢাকা উত্তরের মেয়র হওয়ার মধ্য দিয়ে সীমাবদ্ধ ক্ষমতা নিয়েও যে যোগ্যতা, দক্ষতা, মেধা, সাহস আর পরিশ্রমী হলে কাজ করা যায়, সেটি আনিসুল হক দেখিয়েছিলেন। কাজের মধ্য দিয়ে আনিসুল হক আপনার মুখই উজ্জ্বল করেননি, যারা নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তার কর্মযজ্ঞে সেসব তলানিতে হারিয়ে গিয়েছিল। তার অকাল মৃত্যুর পর দেখা গেছে, দল-মত-নির্বিশেষে সবাই তার কাজের মূল্যায়ন করেছেন। গভীর ভালোবাসা ও অশ্রুজলে শেষ বিদায় জানিয়েছেন উচ্ছ্বসিত প্রশংসার মধ্য দিয়ে। আনিসুল হক নিজেই স্বপ্ন দেখেননি, মানুষকে দুই চোখভরে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। আস্থায় নিয়েছিলেন নগরবাসীকে। ঢাকা উত্তরকে বদলে দিচ্ছিলেন একের পর এক কাজে হাত দিয়ে। আমাদের চেয়ে আপনি ভালো জানেন, তার কঠিন একাগ্রতা, দৃঢ়তা, নৈতিক সাহসে যুগের পর যুগ বহাল তবিয়তে থাকা তেজগাঁও অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড ঘিরে যে অপরাধ বাণিজ্যের সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল তিনি তা উচ্ছেদ করেছিলেন। অনেকের রোষানলে পড়েছিলেন। তাকে অবরোধ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উদ্ধার করে এনেছিল। পাকিস্তানের দালাল মোনয়েম খানের উত্তরসূরিরা ৪০ বছর ধরে জনগণের যে সম্পদ দখল করে এসেছিল একজন আনিস দায়িত্ব গ্রহণের পর তা মুক্ত করে বনানীকে বদলে দেন। কারওয়ান বাজারকে সরিয়ে এখানকার গড়ে ওঠা তীব্র যানজট থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। গুলশান, বনানী, উত্তরা এক আধুনিক নগরীর অংশ হয়ে উঠেছিল, ঝকঝকে প্রশস্ত রাস্তা আর চকচকে ফুটপাথ দৃষ্টিনন্দন হয়ে দেখা দিচ্ছে এখনো। পর্যায়ক্রমে উত্তরের সব এলাকার চেহারা বদলে দেওয়ার কথা ছিল। নিয়তির বিধান অকালেই তাকে চলে যেতে হলো। ফুটপাথকে অবৈধ দখল থেকেই মুক্ত করেননি, সরকার সমর্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের স্থাপনা উচ্ছেদ করেছেন। তিনি প্রতিনিয়ত বলতেন, আপনার অকুণ্ঠ সমর্থন ও নেপথ্য শক্তির কারণে তিনি একের পর এক কঠিন চ্যালেঞ্জ নিতে পারছেন। আনিসুল হকের মৃত্যুর পর তার কবর শুকিয়ে যাওয়ার আগেই তেজগাঁওয়ে সেই অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড আবার মাথা তুলেছে যেন আনিস নেই, কে তাদের ঠেকায়? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আনিসুল হকের মেয়র হিসেবে তিন বছর কেন সাফল্যের তা পর্যালোচনা করে দেখেছি প্রথমত, সিটি করপোরেশন ঘিরে তার নিজস্ব কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল না। ছিল না কোনো সিন্ডিকেট। কোনো ঠিকাদার তার পছন্দের মানুষ হিসেবে কাছে ভিড়তে পারেননি। নিয়োগ থেকে টেন্ডার সবকিছুই ঘটেছিল তাই স্বচ্ছতার সঙ্গে। আইনি বিধিবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করার মধ্য দিয়ে সিটি করপোরেশন থেকে কাজ ভাগাভাগি, কমিশন প্রথা, নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি নির্বাসনে পাঠিয়ে নগর ভবনকে নগরবাসীর পরম ভরসার কেন্দ্রে পরিণত করেছিলেন। দুর্নীতিমুক্ত করেছিলেন। যেখানেই দুর্ঘটনা রাত-বিরাতে যখন হোক নগরীর মেয়র হিসেবে আনিসুল হক ছুটে গেছেন। তিনি কোনো রাজনৈতিক সংগঠন থেকে জন্ম নিয়ে আসেননি। তিনি এসেছিলেন জীবনযুদ্ধে এক জয়ী মানুষ হিসেবে। সাদাকালো টেলিভিশন যুগে উপস্থাপনা করে আমাদের হৃদয় জয় করেছিলেন। বেকারত্বের দহন সয়েছেন। চাকরি করেছেন। কঠোর পরিশ্রমে ব্যবসায় সাফল্য এনে শিল্পপতি হয়েছেন। ব্যবসায়ী সমাজের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। আপনি তাকে মনোনয়ন দেওয়ার পর তিনি মেয়র নির্বাচিত হয়ে আপনার প্রতি আনুগত্য থেকে সরেননি কিন্তু নগর ভবনকে দলীয়করণের ঊর্ধ্বে রেখেছিলেন। নগরবাসীর সমস্যার সমাধান যে নগরীর মেয়র দিতে পারেন, মানুষের আশা যে পূরণ করতে পারেন, একটি পরিচ্ছন্ন ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি গড়তে নিরলস পরিশ্রম করতে পারেন সেই বিশ্বাস ও আস্থা তিনি অর্জন করেছিলেন। মেয়রের আসন যে সেবকের আসন সেটি তিনি প্রতিষ্ঠা করে মেয়রের জায়গাটিকে অন্য উচ্চতায় দাঁড় করিয়ে দিয়ে গেছেন। তার ইমেজ ভাঙতে পারেন এমন প্রার্থীর নাম এখন পর্যন্ত শোনা যাচ্ছে না। গণমাধ্যমে যেসব নাম উপনির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছে আনিসের বিকল্প হিসেবে তারা কতটা পারবেন এ প্রশ্নে মানুষের দ্বিধা-সংশয় রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বলাবলি হচ্ছে এবারও উপনির্বাচনে আপনি প্রার্থী নির্বাচনে চমক দেবেন। মানুষের প্রত্যাশার জায়গা থেকে এটি এখন সময়ের দাবি। ঢাকা উত্তরের জন্য আপনি আরেকজন আনিসুল হককে প্রার্থী করুন যিনি মেয়র নির্বাচিত হলে ব্যক্তিগত লোভ-লালসা, স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে উঠে মেধা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, সাহস ও নেতৃত্বের মহিমায় মানুষের প্রত্যাশা ও স্বপ্ন পূরণের বিশ্বস্ত সেবক হতে পারেন। যিনি যানজটমুক্ত একটি পরিচ্ছন্ন সুন্দর নগরী গড়তে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে সততার সঙ্গে কঠোর পরিশ্রমে নিরন্তর কাজ করবেন। আনিসুল হকের মতো উপহার দেওয়া সেই প্রার্থী দলেরই হোক আর বাইরেরই হোক আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আমরা কেবল আনিসুল হকের মতো আরেকজন যোগ্য প্রার্থী আপনার কাছে চাইছি। মানুষের মনের ভাষা, চোখের ভাষা আপনি পড়তে পারেন। সেবার যখন ভুল করেননি এবারও ভুল করবেন না— এটা অনেকেই মনে করেন।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।