আজকের বার্তা | logo

৬ই মাঘ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জানুয়ারি, ২০১৮ ইং

ভোলার উপকূলীয় এলাকায় শীত যেন ছিন্নমূলদের জীবনে অভিশাপ

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ২৮, ২০১৭, ১১:২৪

ভোলার উপকূলীয় এলাকায় শীত যেন ছিন্নমূলদের জীবনে অভিশাপ

ভোলা প্রতিনিধি: ভোলার উপকূলীয় এলাকায় শীতের তীব্রতা বাড়ছে। বাড়ছে কনকনে ঠান্ডা হাওয়া আর ঘন কুয়াশা। ফলে শীতবস্ত্রের অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে চরাঞ্চল আর বেড়িবাঁধের ছিন্নমূল দরিদ্র পরিবারগুলো। বহুতল ভবনে থেকে লেপ কম্বলেও যখন শহরের মানুষের শীত কমছে না ঠিক তখন এসব পরিবারের সদস্যদের খড়-কুটোর আগুন আর ছেঁড়া কাঁথাই শীত নিবারণের একমাত্র ভরশা।দিন যত গড়াচ্ছে শীত ততই জেঁকে বসছে। কোন মতে শীতটা পাড় করতে পারলেই যেন দায় সারা। তাই বেড়িবাঁধ আর চরাঞ্চলের হতদরিদ্র মানুষগুলোর জীবনে অভিশাপ হয়ে আসে শীতের তীব্রতা। অন্যদিকে শীত আসার সাথে সাথে শহর তলীর হাটবাজার গুলোতে পুরানো কাপড়ের দোকানগুলোতে ভীর বাড়তে শুরু করেছে। দাম অন্যবারের চেয়ে বেশি হওয়ায় দরিদ্র মানুষগুলোর ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলেগেছে।

সরজমিনে বিভিন্ন চরাঞ্চল ও বেড়িবাঁধ ঘুরে দেখা গেছে, এবছর শুরুতেই শীতের তীব্রতা প্রকোট আকার ধারণ করেছে। সন্ধ্যা থেকে পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত শীতের তীব্রতা বাড়ায় অভাবগ্রস্ত পাঁচ লাখ মানুষ ঠান্ডায় কাবু হয়ে পড়ছে। বেড়িবাঁধ এলাকার দরিদ্র শিশুদেরকে দেখা গেছে শীতবস্ত্রহীন। অনেকেই আবার আগুন জ্বেলে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে।

তবে শীত জেঁকে বসলেও এখন পর্যন্ত সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবে কোনো সহায়তা পায়নি তারা। তবে সমাজের বিত্তবানরা যদি এসব হতদরিদ্র মানুষের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে সুবিধা বঞ্চিত শিশুরা কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতো বলে মনে করছেন তারা।

অপরদিকে, ভাঙন কবলিত বিটেহীন মানুষগুলো শীতের তীব্রতায় কষ্টে জীবন যাপন করছে। তাদের জীবন চলে নদীতে মাছ ধরা আর শ্রম বিক্রি করে। দরিদ্র এসব মানুষের শীত বস্ত্র কেনা তো দূরের কথা এক বেলা দু’মুঠো ভাতের ব্যবস্থা করতে হিমশিম খেতে হয়। তাঁরা নদীর পাড়ে বেড়িবাঁধ কিংবা বেড়িবাঁধের পাশে ঝুপড়ি ঘর বেঁধে কোনো মতে রাত কাটায়। প্রতি বছর শীত আসলে তারা প্রচন্ড কষ্ট পায়।

এসময় মেঘনা নদীর বাঁধে আশ্রিত একাধিক পরিবারের সাথে কথা হয়। তাঁরা জানান, “সরকারিভাবে এখনো কোন সাহায্য সহযোগিতা পায়নি। প্রাতি বছর সরকারের পক্ষ থেকে শীত বস্ত্র দেওয়া হলেও আমরা সেগুলো সকলের কপালে জোটে না”।

তেতুলিয়া নদীর বেড়িবাঁধে আশ্রিত আছুরা খাতুন বলেন, “নদী ভাঙ্গনে সব চলি যাওয়ায় এহন বাঁধের রাস্তায় পাশে কোন রহম আছি। টেহার অভাবে শীতের কাপুড় কিনতে না পারনে রাইতে ঠান্ডায় ঘুমাইতে পারি না। পোলা-মাইয়াগোরে শীতের গরম কিছু কিন্যা দেওনের মত কোন উপাও নাই আমগো কাছে”। শীত বাড়ার সাথে সাথে ভাবিয়ে তুলেছে এসব মানুষকে। তাদের ধারণা অন্য বারের চেয়ে এবার বেশী শীত পড়ছে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোহাং সেলিম উদ্দিন জানান, বর্তমান সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্রদের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। চরাঞ্চল ও বেড়িবাঁধের ছিন্নমূল মানুষের মাঝে বিগত দিনগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। এবছরও বিতরণ করা হবে বলে জানান তিনি।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।