আজকের বার্তা | logo

৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

ভোলার চর কুকরি-মুকরিতে হচ্ছে হরিণ প্রজনন কেন্দ্র

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ২৪, ২০১৭, ১৭:৩২

ভোলার চর কুকরি-মুকরিতে হচ্ছে হরিণ প্রজনন কেন্দ্র

চর কুকরি-মুকরিতে তৈরি হচ্ছে হরিণ প্রজনন কেন্দ্র। বন বিভাগের উদ্যোগে ১৫০ একর বনভূমিতে হচ্ছে এ প্রজনন কেন্দ্র। এ অঞ্চলটি ভোলার চরফ্যাসন উপজেলায় অবস্থিত। ভোলা জেলা সদর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে চর কুকরি-মুকরির অবস্থান। এই চর কুকরি-মুকরিতেই আগামী ১৬ জানুয়ারি হরিণ প্রজনন কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হবে। এছাড়া এলাকাটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ।

বন বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, এখানকার বনে দেড় থেকে দুই হাজার চিত্রা হরিণ রযেছে। কিন্তু বছরের মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি বছর বর্ষা ও বন্যার কারণে এ অঞ্চলে প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয় এই বনের হরিণগুলোকে। অন্যদিকে চরটিকে পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেওয়া হলেও উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি বললেই চলে। হরিণের বংশবৃদ্ধির জন্যই এই প্রজনন কেন্দ্র বলছে বন বিভাগ।

বন বিভাগ জানায়, ভোলার চরফ্যাসন পৌরসভা থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে তেঁতুলিয়া নদীতে জেগে ওঠে চর কুকরিমুকরি বনভূমি। বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে ম্যানগ্রোভ ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয় তিন বছর আগে। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনার অভাবে প্রায় ১৫০ একরের বনভূমিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের প্রচেষ্টায় এই বনে চিত্রা হরিণ অবমুক্ত করা হয়। এছাড়া পর্যটকদের জন্য বার্ড ওয়াচ সেন্টার, দৃষ্টিনন্দন পার্কসহ বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে একা‌ধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে এ বনের উন্নয়ন ও হরিণ বসবাসের জন্য পদক্ষেপ হিসেবে হরিণ প্রজনন কেন্দ্র গড়ে তোলার কাজ হাতে নেন স্থানীয় সংসদ সদস্য জ্যাকব।

বন বিভাগ সূত্র আরো জানায়, এ এলাকার হরিণগুলো বাচ্চা প্রসব করছে। কিন্তু একশ্রেণীর অসাধু মানুষের কারণে হরিণগুলো বন ছেড়ে লোকালয়ে চলে আসে।

চর কুক‌রি মুক‌রি ইউ‌নিয়‌নের চেয়াম্যান হা‌সেম মহাজন জানান, সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানের অভাবে এতো দিন এ এলাকার হরিণগুলো নানা কারণে বিপর্যয়ের মুখে পড়তো। প্রজনন কেন্দ্র হলে সমস্যা কেটে যাবে। এছাড়া বনটি ঘিরে স্থানীয় জেলেদের উৎপাতের কারণে হরিণের স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যাহত হচ্ছে ব‌লেও জানান তি‌নি।

স্থানীয় বাসিন্দা মান্নান মিয়া বলেন, কয়েকবার হরিণগুলো দল বেঁধে নদী সাঁতরে লোকালয়ে চলে এসেছিল। পরে বনে পাঠিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। বেড়িবাঁধ না থাকায় এ চরের অধিকাংশ এলাকা প্রায় সময়ই জোয়ারের পানিতে ডুবে থাকে। সে সময় হরিণগুলোর জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয় থাকে না। একটিমাত্র মাটির কেল্লা তৈরি করে দেওয়া হয়েছে এ বনে। হরিণগুলোর নিরাপত্তা, বসবাস ও বাচ্চা প্রসবের জন্য বনের মধ্যে আরো কেল্লা তৈরি করা দরকার ব‌লে ম‌নে ক‌রেন তি‌নি।

বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সোলায়মান হাওলাদার বলেন, হরিণ বসবাসের জন্য উঁচু টিলা, পুকুর খনন ও নিরাপদ আশ্রয় দরকার। হরিণ মিষ্টি পানি পান করে। কিন্তু এই বন সব সময় জোয়ারের লোনা পানিতে ডুবে থাকে। সে কারণে প্রজনন কেন্দ্রের পাশেই মিষ্টি পানির পুকুর খনন করার কাজ শুরু হয়েছে।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।