আজকের বার্তা | logo

৯ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং

বিশেষ সাক্ষাৎকার: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘ওয়ার্ল্ড ক্লাস’ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে চাই

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ১৮, ২০১৭, ১৯:৪৪

বিশেষ সাক্ষাৎকার: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘ওয়ার্ল্ড ক্লাস’ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে চাই

দক্ষিণবঙ্গের স্বপ্নের বিদ্যাপীঠ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তিনি। শুধু বাংলাদেশ নয়, উপমহাদেশের একজন প্রখ্যাত মৃত্তিকাবিজ্ঞানী। মৃত্তিকাবিজ্ঞানে তাঁর অবদান অতুলনীয়। মাটি থেকে পানির মাধ্যমে খাদ্যচক্রে আর্সেনিকের সংক্রমণ এবং প্রকোপ নিয়ে তাঁর গবেষণা দেশ-বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। কালের কণ্ঠের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নানা বিষয়ে কথা বলেছেন অধ্যাপক ড. এস এম ইমামুল হক

আপনার পড়াশোনা ও কর্মজীবন সম্পর্কে যদি বলতেন— 
১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকাবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পর ১৯৭৩ সালে (ফলাফল প্রকাশ হয় ঐ বছর) একই বিভাগে যোগ দিই প্রভাষক হিসেবে। ১৯৮০ সালে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অবস্থিত এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এআইটি) থেকে অ্যাগ্রিকালচারাল সয়েল অ্যান্ড ওয়াটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এমএসসি, ফ্রান্সের ন্যান্সি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৪ সালে ডক্টর অব ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জন করি পোস্ট ডক্টরাল ফেলোশিপ।

বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন—

বিভিন্ন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) চেয়ারম্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য, মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান, শহীদুল্লাহ হলের প্রভোস্ট, জীববিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন, বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ও গভর্নিং বডির সদস্য, রেডিও টুডে মিডিয়া একাডেমির অনারারি ডিনসহ অনেক দায়িত্ব পালন করেছি। বাংলাদেশ সরকারের কৃষি, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক ও উপদেষ্টা পদে ছিলাম। বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, বাংলাদেশ মৃত্তিকাবিজ্ঞান সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের আজীবন সদস্যসহ একাধিক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সঙ্গেও যুক্ত আছি।

আপনি একজন খ্যাতিমান বিজ্ঞান গবেষক। আপনার গবেষণা সম্পর্কে জানতে চাই—
আমার ৩০০টিরও বেশি গবেষণামূলক প্রকাশনা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। ঢাকা ইউনিভার্সিটি জার্নাল অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেসের বিভাগীয় জার্নালের প্রধান সম্পাদক, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি জার্নাল (বিজ্ঞান) ও বাংলাদেশ জার্নাল অব সয়েল সায়েন্সের যুগ্ম সম্পাদক, জার্নাল অব সয়েল সায়েন্স সোসাইটি অব বাংলাদেশের সম্পাদকীয় বোর্ডের সদস্যসহ অনেক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক জার্নালের পর্যালোচক ছিলাম। আমি বাংলাদেশ মৃত্তিকাবিজ্ঞান সমিতির বর্তমান সভাপতি এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান উন্নয়ন সমিতির সাবেক সভাপতি। বিভিন্ন সময়ে দেশে-বিদেশে অসংখ্য সভা, সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামে অংশগ্রহণ করেছি।

শিক্ষকতা পেশায় পেরিয়ে গেছে ৪২ বছরেরও বেশি সময়-
আমি এখনো খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে ফ্রেঞ্চ পড়াই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে।

আমার শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে কিছুদিন আগে একটি গবেষণাগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘অ্যান ওড টু প্রফেসর এস এম ইমামুল হক : ফরটিটু ইয়ার্স অব ডেডিকেশন টু টিচিং অ্যান্ড রিসার্চ (১৯৭৩-২০১৬)’ সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের আমার বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীবৃন্দ।

শিক্ষা ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অনেক পুরস্কার পেয়েছেন—
বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস গোল্ড মেডেল, বাংলাদেশ ইউজিসি অ্যাওয়ার্ড ২০০৭, বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক ২০০৮, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা পদক ২০০৯, সয়েল সায়েন্টিস্ট অব দ্য ইয়ার ২০১০-সহ বেশ কিছু পুরস্কার পেয়েছি।

আপনাদের সময়কালে ‘ক্লাব-কালচার’ ছিল, এখন চারপাশে যুবকদের মধ্যে ‘গ্যাং কালচার’ গড়ে ওঠছে। বিপথ থেকে ফেরার উপায় কি বলে আপনি মনে করেন?
তরুণরা নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে এই ক্লাব কালচার ফিরিয়ে আনতে পারে। প্রয়োজনে আলোচনা, ছবি প্রদর্শন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-প্রতিযোগিতা ইত্যাদির আয়োজন করতে পারে।

তরুণরা কীভাবে ভালো কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে?
ভালো কাজ করতে হলে নৈতিকতার বিকাশ ঘটাতে হয়। যে সব তরুণের মধ্যে এই নৈতিকতা বোধ কাজ করে তার নিজের অজান্তেই ভালো কাজ করবে। সমাজসেবা, আর্তজনের সহায়তা, বঞ্চিতদের শিক্ষাদান ইত্যাদির মধ্য দিয়ে তারা তাদের শুরু করতে পারে।

তরুণদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলতেন—
শুভ কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকা সর্বদাই কল্যাণকর এবং কাম্য। তোমরা কখনোই অন্যের অকল্যাণের কথা ভাববে না। কাউকে যদি উপকার নাও করতে পারো, অপকার করো না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশকিছু কাজ করেছেন—
১ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে চালু করেছি বঙ্গবন্ধু হল, শেরেবাংলা হল ও শেখ হাসিনা হল। নির্মাণ করেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। সম্প্রতি চালু করেছি কীর্তনখোলা হল ও শিশুদিবাযত্ন কেন্দ্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাপদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন এনেছি, এর মধ্য দিয়ে কোচিংনির্ভরতা কমবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আপনার পরামর্শ কী?
যে বিষয়ে পড়াশোনা করছ সে বিষয়টিতে দক্ষ হতে হবে। মনে রাখতে হবে তোমাদের শিক্ষাব্যয়ের সিংহভাগ জোগান দিচ্ছে দেশের জনগণ। তোমাদের শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্য ও মূল লক্ষ্য থাকতে হবে জনগণ ও দেশমাতৃকার কল্যাণ। তবেই তোমাদের শিক্ষাজীবন সার্থক হবে। দেশ, সমাজ ও জনগণের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করার ব্রত নিয়ে জ্ঞান আহরণ করো আর বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে এগিয়ে আসো।

আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?
প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে চাই। শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করাসহ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমার অনেক পরিকল্পনা আছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে  ‘ওয়ার্ল্ড ক্লাস’ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করাই আমার লক্ষ্য।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।