আজকের বার্তা | logo

১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪শে মে, ২০১৮ ইং

পটুয়াখালীতে বন্ধ হয়েছে বাল্য বিয়ে ও ভিক্ষাবৃত্তি

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ২৩, ২০১৭, ১৬:৫১

পটুয়াখালীতে বন্ধ হয়েছে বাল্য বিয়ে ও ভিক্ষাবৃত্তি

রয়েছে বিশুদ্ধ পানির সমস্যা। সেচের পানি সংকট। এখনও বাঁধের বাইরে প্রায় আটশ পরিবার চরম ঝুঁকির মধ্যে ঝড়-জলোচ্ছাসের সাথে যুদ্ধ করেছে। প্রায় ৩০ কিলোমিটার অরক্ষিত বেড়িবাঁধ। ১৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক ও একটি দাখিল মাদ্রাসার কয়েক হাজার শিক্ষার্থী অথচ গোটা এলাকায় চার কিলোমিটার পাকা রাস্তা। সন্ধা হলেই গ্রামের পর গ্রাম অন্ধকারে ঢেকে যায় বিদ্যুতের আলোর অভাবে। এ কারণে এখনও শিক্ষার উর্ধ্বগতির গ্রাফে পিছিয়ে শিক্ষার্থীরা।

গ্রামীন অর্থনীতি ও চিরচেনা গ্রামীন মেঠোপথ পাল্টে গেলেও এখনও ডিজিটাল সুবিধা বঞ্চিত ছাত্র-ছাত্রীরা। পটুয়াখালীর কলাপাড়ার একটি ইউনিয়ন ডালবুগঞ্জ। এ ইউনিয়ন সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে  বাল্যবিয়ে বন্ধ ও ভিক্ষুকমুক্ত ইউনিয়ন হিসেবে।

দেশ স্বাধীনের পর এই ডালবুগঞ্জ তৎকালীন খাপড়াভাঙ্গা ইউনিয়নের সাথে থাকলেও ২০১০ সালে এ ইউনিয়ন ভাগ করে মহিপুর ইউনিয়ন ও ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন করা হয়। প্রথম প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এম বি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ দেলওয়ার হোসেন। তাঁর সময়ে ইউনিয়নে প্রথম উন্নয়ন পরিকল্পনার কাজ শুরু হলেও ২০১৩ সালের প্রথম নির্বাচনে আঃ সালাম সিকদার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে পাল্টে যেতে থাকে গোটা ইউনিয়নের চিত্র। কিন্তু উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিদ্যুতের অভাবে সকল উন্নয়ন চিত্র চাপা পড়ে যায়।

কলাপাড়া উপজেলা তথ্য বাতায়ন সূত্রে জানা যায় প্রায় ছয় হাজার চার বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ ইউনিয়নে গ্রাম ১৫টি। জনসংখ্যা ১০ হাজার ৫৬ ( ২১০২ সালের ৯ জুলাই এর তথ্য)। বর্তমানে জনসংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও সঠিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় দেশ স্বাধীন পরবর্তী এ ডালবুগঞ্জ অবহেলিত থাকলেও গত চার বছরে গোটা ইউনিয়ন উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় এসেছে। উপজেলার প্রথম ইউনিয়ন হিসেবে ঘোষনা করা হয়েছে “ভিক্ষুক মুক্ত ইউনিয়ন” হিসেবে। বিধবা, স্বামী পরিত্যক্ত, ও বয়স্ক নারীদের ভিজিএফ, ভিজিডি, বয়স্ক ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাদের প্রতি ঈদে শাড়ি, লুঙ্গি বিতরণ করছেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় শুধু মাত্র ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে গত চার বছরে ৩০ টি গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। এ ছাড়া ডালবুগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিমে সাড়ে ছয় লাখ টাকা ব্যয়ে ইটের রাস্তার লিংক রোড, এক লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে গংকের খাল খনন, ছোনখোলা বাঁধ ঘাট এলাকায় পাবলিক টয়লেট নির্মান, ৩৩জন বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত মহিলাকে আত্মকর্মসংস্থানের জন্য সেলাই মেশিন বিতরণ, রসুলপুর গ্রামে চাষাবাদ সুবিধার জন্য কৃষক সমিতিকে সেচ মেশিন প্রদান, দুই লাখ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে মনসাতলী বিলের মধ্যে কালভার্ট নির্মান করে কৃষকদের পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করা, এক লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে পূর্ব ডালবুগঞ্জ গ্রামে পানি নিস্কাশনের জন্য বক্স কালভার্ট নির্মান, ৯৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ডালবুগঞ্জ চেীধুরী বাড়ি হতে বক্স কালভার্ট পর্যন্ত বিএফএস করা হয়েছে। এ ছাড়া স্বনামধণ্য ডালবুগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের বসার সুবিধার জন্য এক লাখ টাকা ব্যয়ে টিন শেড শ্রেনিকক্ষ মেরামত করাসহ বিদ্যালয় হতে পুকুর পাড় পর্যন্ত এক লাখ ১৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ইটের রাস্তা করা হয়েছে। এক লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে নুরপুর দাখিল মাদ্রাসার বিধ্বস্ত শ্রেণিকক্ষ পুনঃনির্মাণসহ ডালবুগঞ্জ কমিউনিটি ক্লিনিক, রমজানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসবাবাপত্র সরবরাহ ও একাধিক খাল ও পুকুর খনন করা হয়েছে। গ্রামের কৃষকদের বর্ষাকালীন পানি নিস্কাশন ও শুস্ক মৌসুমে সেচের পানি সুবিধার জন্য এ খাল খনন করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন এনজিও এবং সরকারি কর্মপরিকল্পনায় এগিয়ে চলছে গোটা ইউনিয়নে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প। যাতে এলাকার বেকার যুবক ও নারীরা কাজের সুযোগ পেয়েছেন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে। ভিচিএফ,ভিজিডিসহ সরকারি ত্রানসুবিধা পেয়েছে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় গ্রামীন পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী।

ডালবুগঞ্জ ইউনিয়র পরিষদ সূত্রে জানা যায়, গোটা ইউনিয়নে মাত্র চার কিলোমিটার পিচ ঢালাই রাস্তা। এখনও ১০ ভাগ মানুষ রয়েছে স্যানিটেশন সুবিধার বাইরে। বিদ্যুত সুবিধা পেয়েছে মাত্র বরকতিয়া, দক্ষিন খাপড়াভাঙ্গা ও মনষাতলী গ্রামের কয়েক’শ পরিবার। এখন অরক্ষিত প্রায় আটশ পরিবার বাঁধের বাইরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় মানবেতর জীবরযাপন করছে। যারা প্রতিটি ঝড়,জলোচ্ছাস হলেই ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছে। তবে বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ পুনঃনির্মানের কাজ চলছে। যাতে আগামি বর্ষা মেীসুমে ঝড়, জলোচ্ছাস থেকে রক্ষা পাবে বাঁধ সংলগ্ন পরিবারগুলো।

চার বছর আগের ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের চিত্র বর্ননা করতে গিয়ে ষাটোর্ধ আঃ রহিম মিয়া বলেন,“ আগে তো বর্ষা হইলে হাটতেই পারতাম না। হাডু হোমান (হাটু পর্যন্ত) পানি থাকতো রাস্তায়। খাল মইর‌্যা যাওয়ায় বর্ষায় চাষের জমি ডুইব্যা থাকতো পানি নামতো না। অভাব ছিলো গ্রাম জুড়ে। কিন্তু এ্যাহন আর হেইদিন নাই। সব কিছুই পাল্টাইয়া গ্যাছে। সরকারতো কাজ করতেই আছে তার লগে চেয়ারম্যানও।”
স্কুল শিক্ষার্থী বশির, আসমা, সামিয়া, রাতুল জানায়, বিদ্যুত না থাকায় তারা রাত জেগে পড়তে পারছেন না। কম্পিউটার, ইন্টারনেট দুনিয়া থেকে তারা ব্যবহার করতে পারছেন না। এ কারণে আধুনিক শিক্ষাসুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত। গ্রামীন রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন হওয়ায় এখন বর্ষা মেীসুমেও তারা জুতা পায়ে স্কুলে যেতে পারলেও তাদের ইউনিয়নে উচ্চতর শিক্ষার জন্য এখনও কোন কলেজ প্রতিষ্ঠা না হওয়ায় উচ্চতার শিক্ষাগ্রহনে পিছিয়ে রয়েছে এ ইউনিয়নের নারী শিক্ষার্থীরা।

ডালবুগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আঃ সালাম সিকদার জানান, তিনি গত চার বছরে এলাকার হতদরিদ্র, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের পুনর্বাসনে কাজ করেছেন। তাদের সব ধরনের সহায়তা প্রদান করেছেন। গ্রামীন জনপদ বিদ্যুতায়নের ব্যবস্থা করেছেন। বাঁধ সংস্কার ও রাস্তা-ঘাট, কালভার্ট ব্রিজের উন্নয়ন করেছেন। বিশুদ্ধ পানি সুবিধার জন্য প্রায় প্রতিটি গ্রামে একাধিক গভীর নলকূপ বসিয়েছেন। গ্রামীন বাজার উন্নয়ন করেছেন। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি নতুন ইউনিয়নকে চার বছরে আধুনিকায়ন করার চেষ্টা করেছেন। তবে এলাকার উন্নয়নে ও সামাজিক পরিবর্তনে তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন বাল্যবিয়ে বন্ধ ও ভিক্ষাবৃত্তিকে। এ কাজে তিনি সফল হয়েছেন বলে দাবি করেন।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।