আজকের বার্তা | logo

১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৫শে মে, ২০১৮ ইং

ন্যাশনাল সার্ভিস প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে অর্থ বাণিজ্য

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ২৬, ২০১৭, ০১:৫২

ন্যাশনাল সার্ভিস প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে অর্থ বাণিজ্য

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশালে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির আওতাধীন প্রশিক্ষণার্থী কর্মীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ৩টি ভেন্যুতে প্রশিক্ষণ নেয়া বেকার যুবক-যুবতীদের কাছ থেকে নানা খাতে ৭শ টাকা থেকে সাড়ে ৯শ টাকা করে অর্থ নেয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণার্থী বেকার যুবক-যুবতীরা অভিযোগ করেছেন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের নির্দেশে ইতোমধ্যে একটি ব্যাচের ৬ শতাধিক প্রশিক্ষণার্থীর কাছ থেকে এ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এরপরও এ কর্মসূচির দায়িত্বপ্রাপ্তদের হাতে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। প্রসঙ্গত, বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১ হাজার শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীকে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। জানা গেছে, বেকার যুবক-যুবতীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করে তোলার জন্য সরকার ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু করে। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ওই প্রকল্পের আওতায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের ১ হাজার শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীর প্রশিক্ষণ শুরু হয় চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে। নগরীর ইসলামিয়া কলেজ, ব্রজমোহন বিদ্যালয় ও ছাবেরা খাতুন বালিকা বিদ্যালয় ভেন্যুতে প্রথম ব্যাচে প্রায় ৬শ বেকার যুবক-যুবতীর প্রশিক্ষণ শুরু হয়। প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী একাধিক যুবক-যুবতী অভিযোগ করেছেন, তাদের কাছ থেকে পিকনিক, স্ট্যাম্প, কম্পোজ, আইডি কার্ড, রেভিনিউ, ব্যাংক অ্যাকাউন্টসহ নানা খাতের অজুহাতে প্রায় ৭শ টাকা নিয়েছে সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। নগরীর ব্রজমোহন বিদ্যালয় ভেন্যুর প্রথম ব্যাচের এক প্রশিক্ষণার্থী জানান, পিকনিকসহ নানা খাতে অর্থ দেয়া বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু এখানে যারা এসেছেন তাদের অধিকাংশই অসহায় নারী ও পুরুষ। ছাবেরা খাতুন বালিকা বিদ্যালয় ভেন্যুর একাধিক প্রশিক্ষণার্থী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণে তারা ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচিতে সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু এখানে এসে একদিকে যেমন বেকারদের অর্থ ব্যয় হচ্ছে তেমনি অসম্মানিতও হতে হচ্ছে। এ ভেন্যুর দায়িত্বে থাকা মো: মিরাজ হোসেন নামে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এক ব্যক্তি বেকার যুবক-যুবতীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, যুব উন্নয়নের স্টাফ না হলেও মিরাজের মাধ্যমেই এই অর্থ তুলছে অধিদপ্তরটি। নতুন ব্যাচে শুরু হওয়া প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকা করে ধার্য করা হয়েছে। ইসলামিয়া কলেজ ভেন্যুর একাধিক প্রশিক্ষণার্থী বেকার যুবক- যুবতী জানিয়েছেন, আগামী ২ জানুয়ারির মধ্যে তাদের ৯৫০ টাকা করে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে স্ট্যাম্প বাবদ ৩৩০ টাকা, কম্পোজ বাবদ ৭৫ টাকা, আইডি কার্ড বাবদ ১০০ টাকা, রেভিনিউ বাবদ ১০ টাকা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বাবদ ৫০ টাকা এবং পিকনিক বাবদ ৩৮৫ টাকা ধার্য করা হয়েছে। জানতে চাইলে ইসলামিয়া কলেজ ভেন্যু’র কো-অর্ডিনেটর স্বপন কুমার বলেন, আগের ব্যাচের কাছ থেকে তারা ৮৫০ টাকা করে নিয়েছেন। এবার ৯৫০ টাকা করে ধার্য করা হয়েছে। পিকনিক বাবদ এবার একটু বাড়তি অর্থ ধার্য করা হয়েছে। তবে তিনি সরকারিভাবে ১ টাকা নেয়ারও কোন নির্দেশনা নেই বলে জানান। তবে প্রশিক্ষণার্থীরা যদি পারেন তবে তারা তাদের মত করে দিতে পারেন। বরিশাল ইসলামিয়া কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল বলেন, তিনি জানতেন না যে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মীদের কাছ থেকে অর্থ নেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পে বেকারদের কাছ থেকে অর্থ নেয়া-এমনটা হতেই পারে না। তাছাড়া শিক্ষত এসব যুবক-যুবতীদের সাথে খারাপ আচরণ করা শোভনীয় নয়। এসব বিষয় তিনি খতিয়ে দেখে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরকে তা বন্ধ করার নির্দেশ দিবেন। এ ব্যাপারে বরিশাল সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আ: রহমান সেরনিয়াবাত বলেন, বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১ হাজার শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীকে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে অর্থ নেয়ার কোন এখতিয়ার নেই। তিনি সংশ্লিষ্টদের পিকনিকসহ অন্যসব খাতে অর্থ নেয়া বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।