আজকের বার্তা | logo

১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪শে মে, ২০১৮ ইং

নগরীতে রক্তচোষা টোকাই সাংবাদিকদের উৎপাত

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ১৯, ২০১৭, ০২:২৯

নগরীতে রক্তচোষা টোকাই সাংবাদিকদের উৎপাত

সরেজমিন প্রতিবেদন ॥ বরিশালে সমাজ পরিত্যক্ত এক শ্রেণির নেশাগ্রস্ত বখাটে টোকাইরা কথিত সাংবাদিকের বেশ ধারণ করেছেন। সমাজের খুচরা অপরাধী যেমন মাদকসেবী, সিঁদেল চোর, ছিনতাইকারী বা তাদের সংশ্লিষ্টজন নিজেকে আইনের চোখ থেকে আড়াল করার জন্য টোকাই সাংবাদিক ছদ্মবেশ ধারণ করে মাঠে নেমেছেন। এদের সাথে প্রশাসনের অবুঝ নিম্নস্তরের সদস্যদের সাথে ক্ষেত্র বিশেষ সখ্যতাও লক্ষ্য করা যায়। ফলে উভয় পক্ষের ‘বেনিফিট’ হিসাবে রমরমা ব্যবসায় অর্জিত টাকা ভাগ বাটোয়ারা হয় নিজেদের মধ্যে। কথিত এই সকল টোকাই সাংবাদিকরা হানা দেন না এমন কোন স্থান খুঁজে পাওয়া যায় না। ফলে এদের কর্মকা-ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে নগরবাসী। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কথিত টোকাই সাংবাদিকদের সাথে কোন পত্রিকার যোগাযোগ তো দূরের কথা, তাদের নাম পরিচয়ও কর্তৃপক্ষ জানে না। অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের সরকারি অনুমোদনবিহীন অনলাইন পত্রিকায় সাংবাদিকতায় জড়িত বলে চালিয়ে দেন এরা। একটি মুখরোচক নামের অনলাইন পত্রিকার পরিচয় দিয়ে তারা তাদের ফায়দা হাসিল করছেন। এদের গলায় ক্যামেরা, হাতে মোবাইল, প্রেস লেখা সম্বলিত মোটরসাইকেল, প্যাড-কলমই হয় একমাত্র সহায়। টোকাই সাংবাদিক পরিচয়দানকারীদের বিরুদ্ধে মহানগর এবং তার বাইরের এলাকায় অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। যেমন চাদাঁবাজি, মাদক, ছিনতাই ইত্যাদি কু-কর্মে তারা লিপ্ত। অনেকে আবার মামলার আসামিও বটে। কিন্তু সাংবাদিকতার লেবাস লাগিয়ে তারা নিরাপদ এবং নিরাপত্তা বিধানে সচেষ্ট রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ সকল টোকাই সাংবাদিকদের দু-একটি মিডিয়াবিহীন পত্রিকার সঙ্গে অধিকতর সংশ্লিষ্টতা দেখা যায়। যাদের অনেকেরই এক কলম লেখা বা গুছিয়ে কথা বলার যোগ্যতাও নেই। এদের বাড়িঘরের খোঁজ পাওয়াও কঠিন। বিভিন্ন সরকারি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে এদের অনুনোমোদিত আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এমনকি ব্যক্তিবিশেষের কাছ থেকেও সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজি ও তদবির বাণিজ্য করে থাকেন কথিত টোকাই সাংবাদিকরা। বস্তি, ছাপরা, দোকান বা পরিত্যক্ত কোন স্থানে তাদের রাত কাটাতে হয়। বাড়িতে হাঁড়ি চলে না। হোটেল, রেস্টুরেন্টে পয়সা না দিয়ে জোরপূর্বক চা-নাস্তা আহার করছেন। বরিশালের কথিত টোকাই সাংবাদিকদের এহেন কর্মকা-ের জন্য পুরো সাংবাদিক সমাজ আজ ক্ষতিগ্রস্ত। জাতির বিবেক সাংবাদিকগণ এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বারংবার অনুরোধ জানিয়ে যাচ্ছেন। কারণ এদের নির্মূল করা খুবই সহজ। নামধারী চিহ্নিত এ সকল সাংবাদিকদের আদ্যপান্ত তদন্ত করলেই জানা যাবে তাদের রাজনৈতিক পরিচয়, অতীত এবং বর্তমান ইতিহাস। এ সকল টোকাই সাংবাদিক পরিচয়দানকারীরা মৃত বাড়িতে ক্যামেরা গলায় ঝুলিয়ে এবং বিবাহ অনুষ্ঠানসহ অন্যান্য ভোজ অনুষ্ঠানে বিনা আমন্ত্রণে দলে দলে হানা দেন। এলোপাতাড়ি অনুমতি ব্যতিরেকে ছবি তোলার বাহানা করে ওই সকল স্থান থেকে ভোজের পর্ব শেষ করা ছাড়াও প্যাকেটে খাবার নেয়াসহ চাপের মুখে টাকা হাতিয়ে নেন তারা। মূলত, হাজারো পেশার মধ্যে সাংবাদিকতা একটি মহৎ ও সম্মানজনক পেশা। কিন্তু এসব টোকাই সাংবাদিকের কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন নগরীর বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত নানা অনুষ্ঠানের আয়োজকরা। সাংবাদিক সমাজ ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে টোকাই অপ সাংবাদিকদের ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। সরেজমিনের তথ্যমতে, সম্প্রতি যুব দিবসে একটি প্রতিষ্ঠানের নিউজ কভারেজের জন্য ৫ হাজার টাকার বাজেট ছিল। সকাল সাড়ে ৯ টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ৫ জন সাংবাদিককে ওই টাকা দিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আরো ৩২ জন ক্যামেরা ও কলম নিয়ে টোকাই সাংবাদিক হাজির হন ওই অনুষ্ঠান স্থলে। ফলে চরম বিপত্তিতে পড়ে আয়োজক কমিটি। সম্প্রতি বরিশাল সার্কিট হাউসে কর্মশালার আয়োজন করে একটি বেসরকারি সংস্থা। সেখানে মাত্র ৩ জন সাংবাদিককে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু একটি পর্যায়ে ক্যামেরা গলায় ঝুলিয়ে ও কাগজ-কলম নিয়ে হাজির হন অনুনোমোদিত আরো ২৩ জন টোকাই সাংবাদিক। এ কারণে চরম বিপত্তির সম্মুখীন হন আয়োজনকারী ওই বেসরকারি সংস্থা। গত রোববার নগরীর আমানতগঞ্জ সরকারি মুরগীর ফার্ম এ মুরগি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে হাজির হন কথিত এক সাংবাদিক। নানা ভয়-ভীতি দেখিয়ে পরে সেখান থেকে ৩টি মুরগি বকশিস হিসেবে নিয়ে চম্পট দেন। সম্প্রতি অন্ধ কল্যাণ সংস্থার এক সভায় ৪২ জন টোকাই সাংবাদিক হাজির হয়ে ২শ টাকা করে হাতিয়ে নেন। মহান বিজয় দিবসে নাস্তা খাওয়ার নামে একটি দলের ৩ নেতার কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন টোকাই সাংবাদিকরা। এমন শত শত ঘটনা ঘটছে বরিশালের বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। এছাড়া কাশিপুরের ডেয়ারী ফার্মেও হানা দিয়ে এই সকল অনুনোমোদিত কথিত টোকাই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখিয়ে গরুর দুগ্ধ বিনা পয়সায় বাগিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, মা ইলিশ কিংবা জাটকা ধরে প্রশাসন যখন মাদ্রাসায় বিতরণ করে তখনও কথিত কতিপয় টোকাই সাংবাদিক ব্যাগ বোঝাই করে জাটকা ছিনতাই করেন। এছাড়াও নগরীর হাটবাজার, মাছের বাজার, কাঁচা বাজার, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডাক্তার পাড়া, সরকারি, বেসরকারি দপ্তর, মেডিকেলের জরুরি বিভাগসহ সর্বত্র অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনে বিচরণ করেন কথিত টোকাই সাংবাদিকরা। উল্লেখ্য, গত ১১ ডিসেম্বর আমানতগঞ্জে এক মৃত’র বাড়ির লোকজন বাজার করে ফিরে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে রিক্সার গতিরোধ করে প্রেস লেখা একটি মোটরসাইকেল। আরোহীদ্বয় এতো বাজারের কারণ জানতে চাইলে জানানো হয়, ওই মৃত’র বাড়িতে আগত স্বজনদের জন্য সেগুলো আনা হয়েছে। সাথে সাথে ২টি মোরগ জাপটে ধরে রিক্সার পাদানি থেকে তুলে মোটরসাইকেলে চড়ে চম্পট দেন রক্ত চোষা ওই দুই টোকাই সাংবাদিক। হাতে গোনা ২/১টি পত্রিকা কর্তৃপক্ষ এই সমস্ত টোকাই সাংবাদিকদের কু-কর্মে অর্জিত অর্থের বখরা আদায় করে। এই সকল টোকাই সাংবাদিকদের খুঁটির জোর নগরীর একাধিক অধিকর্তা বলে জানা যায়। যারা সমাজে হোয়াইট কালার ক্রিমিনাল নামে পরিচিত।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।