আজকের বার্তা | logo

৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

দুই সেতুর টোল আদায়; পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতে ৩৫ কোটি টাকা গচ্ছা

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ১১, ২০১৭, ২০:০৬

দুই সেতুর টোল আদায়; পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতে ৩৫ কোটি টাকা গচ্ছা

সৈয়দ নজরুল ইসলাল ব্রিজ (ভৈরব) ও শহীদ মিয়াজ উদ্দিন ব্রিজের (ঘোড়াশাল) টোল আদায়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারের ৩৫ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির মুখে ফেলে ‘কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম’ (সিএনএস) নামের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতে সব প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করেছে সড়ক ও জনপদ বিভাগের সংশ্লিষ্টরা। তবে অনিয়মের কথা তুলে ধরে বিষয়টি নতুন করে মূল্যায়ের আবেদন করেছে দুইটি প্রতিষ্ঠান।

জানা যায়, ভৈরব ব্রিজ ও ঘোড়াশাল ব্রিজের টোল আদায়ে গত ১০ অক্টোবর আগ্রহী প্রতিষ্ঠানদের থেকে ৫ বছরের জন্য প্রস্তাব আহ্বান করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ’। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দুই ব্রিজের টোল আদায়ে আগ্রহী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রস্তাবনা জমা দেয়।

জমা পড়া প্রস্তাবনা থেকে সংশ্লিষ্ট মূল্যায়ন কমিটি একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করে। সেখানে ভৈরব ব্রিজের জন্য ৭টি ও ঘোড়াশাল ব্রিজের জন্য ৭টি প্রতিষ্ঠানকে রাখা হয়। এর মধ্যে ৫টি প্রতিষ্ঠান দুইটি সেতুর জন্যই প্রস্তাব জমা দেয়। সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৯টি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রস্তাব জমা দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভৈরব ব্রিজের টোল আদায়ের জন্য আদায়কৃত টোলের ১৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ (সর্বোচ্চ) কমিশন দাবি করে ‘সিএনএস’। বাকী সব প্রতিষ্ঠান সিএনএসের চেয়ে কম দাবি করে। সর্বনিম্ম দর দেয় ‘এনসিই-এটিটি’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান। তারা মাত্র ৭ দশমিক ৭০ শতাংশ কমিশনের প্রস্তাব দেয়। আর এমএম বিল্ডার্স নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান ৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমিশন দাবি করে।

অন্যদিকে ঘোড়াশাল ব্রিজের জন্যও ১৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমিশন দাবি করে সিএনএস। বাকী সবপ্রতিষ্ঠানই সিএনএসের চেয়ে কম কমিশন দাবি করে। এখানে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ কমিশন প্রস্তাব করে ‘এনসিই-এটিটি’ নাম প্রতিষ্ঠান। এখানেও ১০ শতাংশ কমিশনের প্রস্তাব দিয়ে সর্বনিম্ন দ্বিতীয় দরদাতা হয় এমএম বিল্ডার্স।

দু’টি দরপত্রেই কমিশন প্রস্তাবনার হিসেবে ৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সিএনএসের অবস্থান সবার নিচে। এমনকি সিএনএসের অর্ধেক দরে একাধিক প্রতিষ্ঠান টোল আদায়ের দায়িত্ব নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু টেকনিক্যাল কমিটি কর্তৃক ওয়েট মূল্যায়নের সময় সব প্রতিষ্ঠানকে কম নম্বর দিয়ে সিএনএসের নম্বর অস্বাভাবিকভাবে বেশি দেয় হয়। টেকনিক্যাল কমিটি ওয়েট মূল্যায়নে অন্য সব প্রতিষ্ঠানকে ৮০ নম্বরের নিচে রাখে। বিপরীতে সিএনএসকে ৯৬ দশমিক ৫ করে নম্বর দেয়। টেকনিক্যাল কমিটি কর্তৃক সিএনএসকে এভাবে বেশি নম্বর দিয়ে গড় মূল্যয়ে দু’টি দরপত্রেই সিএনএসেকে প্রথম অবস্থানে আনা হয়। অন্যদিকে ভৈরব ব্রিজের জন্য সর্বনি দরদ্বাতা চলে যায় তৃতীয় অবস্থানে আর গোড়াশালের সর্বনি দরদ্বাতা চলে যায় দ্বিতীয় অবস্থানে। ফলে দুই ব্রিজের টোল আদায়ের জন্য সিএনএসের সঙ্গে চুক্তি প্রায় চুড়ান্ত করেছে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ।

এ বিষয়ে টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান সড়ক ও মাহসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুস সবুর বলেন, এখানে কে কি দর দিয়েছে তা মূখ্য নয়। কমিটির নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল্যয়ন করে। সেভাবেই করা হয়েছে। সার্বিক মূল্যয়ে যে প্রতিষ্ঠান প্রথম হয় সেই কাজ পায়। এখানে কোনো ধরণের অনিয়ম হয়নি।

এদিকে অন্যান্য দরদ্বাতা প্রতিষ্ঠানের দরের গড় হিসাব করলে দেখা যায়, সিএনএস নামক প্রতিষ্ঠানকে এ কাজ দিলে আদায়কৃত সরকারি রাজস্ব থেকে সিএনএস অতিরিক্ত প্রায় ৩৫ কোটি নিয়ে যাবে। এর মধ্যে ভৈরব ব্রিজ থেকে ২৪ কোটি ১০ লাখ ৪৩ হাজার টাকা এবং ঘোড়াশাল ব্রি থেকে নেবে ৯ কোটি ১২ লাখ ১৪ হাজার টাকা।

এদিকে দরপত্রে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জিএসআইসি এবং সিএনএস নামক দুটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিষয়টির পূণর্মূল্যায়নের আবেদন করা হয়েছে। জিএসআইসি আবেদনপত্রে বলা হয়েছে, বৈরব ব্রিজের জন্য ওয়েট মূল্যায়নে যাদের নম্বর ৮০ নিচে রাখা হয়েছে তারাই ইতিপূর্বে একই মূল্যায়নে এর চেয়ে বেশি নম্বর পেয়েছিল।

এর মধ্যে পাকশী ব্রিজের জন্য প্রস্তাবনায় জিএসআইস পেয়েছিল ৯০ দশমিক ৯৫, আত্রাই ব্রিজের জন্য পেয়েছিল ৯২ দশমিক ৩৫ এবং কর্ণফূলি ব্রিজের জন্য পেয়েছিল ৯৭ দশমিট ৭৭ নম্বর।

সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী জনাব মো. আব্দুস সবুর বরাবর করা ওই আবেদন পত্রের অনুলিপি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রণালয়ের সচিব, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী বরাবরও দেয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।