আজকের বার্তা | logo

৯ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং

কলাপাড়া ও আমতলীতে ইটভাটায় পুড়ছে কাঠ

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ১৫, ২০১৭, ০২:০৯

কলাপাড়া ও আমতলীতে ইটভাটায় পুড়ছে কাঠ

কলাপাড়া ও বরগুনা প্রতিনিধি ॥ পর্যটন সমৃদ্ধ জনপদ কলাপাড়ায় ধানক্ষেতে কিংবা নদীরপাড়ে বনাঞ্চল ঘেঁষে ইটভাটা নির্মাণের হিড়িক চলছে। যেন কোন নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা নেই। যে যেভাবে পারছে গড়ে তুলছে ইটভাটা। প্রভাবশালী মহলের পার্টনারশিপে গত এক বছরে অন্তত নতুন ২০টি ইটভাটা নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে ৩০টি ইটভাটা নির্মাণ হয়েছে কৃষিজমি, বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বনাঞ্চলের আশপাশে। এসব ইটভাটার মালিকরা সরকারি খাসজমি দখল করেছে শত শত একর। কেটে নেয়া হচ্ছে কৃষিজমির টপসয়েল (মাটির উপরিভাগ)। পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন নিয়ম-কানুন মানা হয়নি। জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে ৩/৪টি ইটভাটায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জেল-জরিমানা করেছে। কিন্তু অবৈধভাবে ইটভাটা তৈরির কাজ বন্ধ থাকছে না। ফলে পর্যটন এলাকার পরিবেশ-প্রতিবেশ ও কৃষিজমি এখন চরম বিপর্যয়ের শঙ্কায় রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নীলগঞ্জ ইউনিয়নে অন্তত ১০টি স-মিল স্থাপন করা হয়েছে। অথচ নীলগঞ্জের অধিকাংশ জমি তিন ফসলী। রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। নদীর চারদিকে রয়েছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল। আন্ধারমানিক নদীর দীর্ঘ এলাকা সাগর মোহনা পর্যন্ত ইলিশের অভয়াশ্রম। অথচ এই নদীরপাড় ঘেঁষে একের পর এক ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যানদের দেয়া তথ্যানুসারে নীলগঞ্জে ১০টি, টিয়াখালীতে ১০টি, মিঠাগঞ্জে দুইটি, চম্পাপুরে একটি, চাকামইয়ায় একটি, ধানখালীতে একটি, লতাচাপলীতে দুইটি, মহিপুরে তিনটি ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে। আরও দুই/একটি ইটভাটা স্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। সরকারি হিসেবে ইটভাটা কতটি তার সঠিক কোন পরিসংখ্যান নেই। এসব ইটভাটায় কয়লার পাশাপাশি জ¦ালানি কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তানভীর রহমান। তার মন্তব্য, আইনের প্রয়োগ চলমান রয়েছে। বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (উপ সচিব) মোঃ আহসান হাবিব বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রচলিত আইন মেনেই ইটভাটা করতে হবে। এর ব্যত্যয় পেলে তার বিরুদ্ধে বিধিমতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে আমাদের আমতলী প্রতিনিধি জানান, আইন ও নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বরগুনার আমতলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধান ক্ষেতে ইটভাটা গড়ে উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সাথে আঁতাত করেই ইটভাটার মালিকরা অবৈধভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নিয়মনীতির কোন তোয়াক্কা করছেন না তারা। এতে হুমকির মুখে পড়েছে ফসলি জমি। জানা গেছে, কৃষি জমি ও পরিবেশ রক্ষায় ফসলি জমিতে ইটভাটা না গড়ার আইন থাকলেও অবৈধ ইটভাটা মালিকরা তা মানছেন না। বরগুনার আমতলী  উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমিতে পরিবেশ অধিদপ্তর, কৃষি অফিসের ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসকের লাইসেন্স ছাড়া ২০ টি জিকজ্যাক, ড্রাম চিমনি (ব্যারেল) ও পাজা ইট পোড়ানোর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। স্বল্প উচ্চতার ড্রাম চিমনি ভাটায় স্থাপন করা হয়েছে। জ্বালানি হিসাবে অনেক ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে কাঠ ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন জাতের গাছ কেটে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এতে পরিবেশ বিপর্যয়সহ জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক হুমকির আশঙ্কা করেছেন পরিবেশবাদীরা। কৃষি জমিতে ইটভাটা নির্মাণ করায় ফসল নষ্ট হচ্ছে। আমতলী উপজেলার ২০টি ভাটায় ইট পোড়ানোর নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, আমতলী-কুয়াকাটা মহাসড়কের সেকান্দারখালী নামক স্থানে এসইউএবি, এমএসবি, কেএবি নামক ইটভাটাগুলো ধান ক্ষেতের মধ্যে চুল্লী নির্মাণ করে মাটি কেটে ইট তৈরির কাজ শুরু করেছে। আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের বাদুরা নামক স্থানে আমতলী-গলাচিপা সড়কের পাশে ধান ক্ষেতে ডিবিএম নামক ইটভাটায় ইট পোড়ানো হচ্ছে। এছাড়া চাওড়া তালুকদার বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ও চালিতাবুনিয়া সড়কের পাশে ইট পোড়ানোর জন্য কাঠ স্তূপ করে রেখেছেন ভাটা মালিকরা। কল্যাণপুর গ্রামের আবদুল বারেক ও কড়াইবুনিয়া গ্রামের রাকিব জানান, কৃষি জমিতে ইটভাটা নির্মাণ করায় যেমন ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে, তেমনি পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আরেফিন বাদল বলেন, আমতলীতে অনেক ইটভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন ছাড়পত্র নেই। পরিবেশ অধিদপ্তরের নীতিমালা লঙ্ঘন করে কেউ ইটভাটা নির্মাণ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অভিযান পরিচালনা করা হবে। আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সরোয়ার হোসেন বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ করে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।