আজকের বার্তা | logo

১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৪ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং

এই শাহে আলম ৯০’র গণ অভ্যুত্থানের অগ্রনায়ক সেই শাহে আলম…

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ২৬, ২০১৭, ০১:৫২

এই শাহে আলম ৯০’র গণ অভ্যুত্থানের অগ্রনায়ক সেই শাহে আলম…

রাহাদ সুমন,বানারীপাড়া প্রতিনিধি ॥
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সফল ও জনপ্রিয় সভাপতি, ৯০’র স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী গণ অভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক দুঃসময়ের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা শাহে আলম। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিনাশী আদর্শের অগ্রসৈনিক শাহে আলম বার বার ত্যাগ শিকারের মাধ্যমে দলের প্রতি তার আনুগত্য, অকুণ্ঠ ভালোবাসা ও বিশ্বস্ততার জানান দিয়েছেন। স্কুল জীবনে ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি তার। ৭৫’র ১৫ আগস্টের পরে যখন বঙ্গবন্ধুর নাম নিতেও মানুষ ভয় পেতো তখন বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার দাবির আন্দোলন গড়ে তুলতে ও আ’লীগকে পুনর্জ্জীবিত করতে বরিশাল অঞ্চলে হাতে গোনা যে ক’জনের ভূমিকা রয়েছে বরিশাল বিএম কলেজের তৎকালীন ছাত্র শাহে আলম তাদের মধ্যে অন্যতম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির মধ্য দিয়ে পরবর্তীতে তৃণমূল থেকে তার কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে অভিষেক ঘটে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, পাঠাগার সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক, সহ-সভাপতি ও সর্বশেষ সভাপতির আসন অলংকৃত করেন তিনি। ১৯৮১-সাল থেকে ৯০ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগকে সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত সংগঠনে রূপান্তর করা ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রাখায় মুগ্ধ হয়ে শেখ হাসিনা ৯০ সালে ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি ও সম্পাদকের পরিবর্তে সহ সভাপতি সুদর্শন শাহে আলমকে ভিপি প্রার্থী নির্বাচিত করেন। সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে পরবর্তীতে তাকে ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ওই সময় ছাত্রদলের নেতা-কর্মী ও ক্যাডারদের দখল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো মুক্ত করতে তিনি তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও কলা কৌশল কাজে লাগান। বিএনপি ও জামায়াত জোট সরকার আমলে (১৯৯১-৯৬ ও ২০০১-২০০৬) বানারীপাড়া, স্বরূপকাঠি ও উজিরপুরসহ বরিশালে আ’লীগকে সুসংগঠিত করে সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে আ’লীগের কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ-সম্পাদক শাহে আলমকে অসংখ্য মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলার আসামি হওয়াসহ নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। এলাকার পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রীয় পর্যায়েও চারদলীয় জোটের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে গিয়ে জোট সরকারের রোষানলে পড়েন। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে ভূমিকা রাখতে গিয়ে তাকে মিথ্যা মামলার আসামি হয়ে হয়রানির শিকার হতে হয়। ওয়ান ইলেভেনে দলের পক্ষে ব্যাপক ভূমিকা থাকার পরেও তাকে দলীয় মনোনয়ন না দেওয়া কিংবা কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ না দেওয়ায় নেতা-কর্মীরা হতবাক হন। ১৯৯১, ৯৬, ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বানারীপাড়া-স্বরূপকাঠি ও পরবর্তীতে বানারীপাড়া-উজিরপুর আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়ে পেতে ব্যর্থ হলেও বিদ্রোহী প্রার্থী না হয়ে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে দলের বৃহত্তর স্বার্থে তিনি দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। ২০১৪ সালে বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে বরিশাল জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. তালুকদার মোঃ ইউনুসের সঙ্গে তিনি যৌথভাবে দলীয় মনোনয়ন পান। পরবর্তীতে অ্যাড. তালুকদার মোঃ ইউনুসকে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হলে তিনি নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসীর বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার দাবি উপেক্ষা করে দলীয় সভানেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আ’লীগ মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। অথচ ওই নির্বাচনে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হলে আঞ্চলিকতার টানে জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন নিয়ে বিজয়ী-ই হতেন। কিন্তু দলের বৃহত্তর স্বার্থে ও আ’লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকে তিনি সে পথে না গিয়ে ত্যাগের মহিমায় নিজেকে উদ্ভাসিত করেন। আ’লীগ নেতা-কর্মীদের বিশ্বাস, এবার জননেত্রী দেশরতœ প্রধানমন্ত্রী ও আ’লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা তার বিচক্ষণœতা দিয়ে দুঃসময়ের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা মুজিব অন্তঃপ্রাণ শাহে আলমকে তার ত্যাগ ও যোগ্যতার কারণে যথার্থ মূল্যায়ন করবেন।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।